সোমবার থেকে জলপাইগুড়ি গভ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ধর্মঘট উঠে গেল

445

জলপাইগুড়ি, ২ এপ্রিল: প্রায় ১৭ দিন ধরে অচলাবস্থা কাটিয়ে সোমবার থেকে জলপাইগুড়ি গভ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ধর্মঘট উঠে গেল।কিন্তু সকাল ১১ টার পর থেকে কলেজ স্বাভাবিক হলেও তার আগে সকালে কলেজের গেট বন্ধ থাকায় রাজ্য কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা প্রনবেশ দাস কলেজের গেট থেকেই ফিরে যান ক্ষুব্ধ হয়ে।সাড়ে এগারোটায় কলেজের কিছু তালা চাবি দিয়ে খুললেও কয়েকটি গেটের তালা ভাঙতে হয়েছে ছাত্রদের।এদিন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে গেল।গত ১৫ এপ্রিল কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের সাথে র‍্যাগিং এবং খেলা নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের সাথে বচসা হয়।সেই ঝামেলা মেটাতে কলেজের অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির সদস্য তথা কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক দীপক কুমার কোলে ঘটনাস্থলে সেদিনই সন্ধ্যায় যান।দ্বিতীয় বর্ষের দুজন ছাত্রকে মারধোর করেন অধ্যাপক কোলে।এরপর।কোলে কলেজ থেকে অপসারনের দাবীতে ১৬ মার্চ থেকে কলেজে ধর্মঘট,অনশন অবস্থান শুরু করে দেয় ছাত্রছাত্রীরা।১৬ মার্চ থেকে স্থানীয় পুলিশ,প্রশাসন,এমনকি পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব,পরে এসজেডিএ চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী ছাত্রদের সাথে বৈঠক করেন।কিন্তু পরে ছাত্রেরা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মেইল করে অধ্যাপক কোলের অপসারনের দাবী করেন।রাজ্য সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করেন মার্চের শেষ সপ্তাহে।তারপর রাজ্য টেকনিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা অমলেন্দু বসু এবং ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ দেবকুমার মুখার্জি সহ ৫ সদস্যের এক তদন্ত দল গঠন করে রবিবার সেই কমিটি জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে বিকেলে আসেন।বিকেল ৩ টে থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত আন্দোলনকারি ছাত্রদের ৪০ জন,অধ্যাপক,অধ্যক্ষ, পুলিশ,প্রশাসন, অভিযুক্ত অধ্যাপক দীপক কুমার কোলে, প্রথম বর্ষের যে ছাত্রেরা র‍্যাগিং র শিকার হয়েছিলেন এদের সকলের বক্তব্য শোনেন তদন্ত কমিটি।তদন্ত কমিটির সদস্য উপাচার্জ্য দেবকুমার মুখার্জি জানান,আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবে ছাত্রেরা রবিবারই তাদের সামনে বলেছিলেন।আমরা সবপক্ষের বক্তব্য শুনেছি।রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট জমা দেবো।এদিকে সোমবার কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ রায়, অন্য ফ্যাকাল্টি এবং রাজ্য কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা প্রনবেশ দাস সকাল ১০ টায় কলেজ গেটে হাজির হন।কিন্তু এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর গেট না খোলায় যুগ্ম অধিকর্তা ফিরে যান কোলকাতায়।কলেজের অধ্যক্ষ অমিতাভ রায় জানিয়েছেন, এদিন প্রনবেশ দাস ফিরে যান ঠিকই।আমি ছাত্রদের ফোনে জানানোর পর সাড়ে এগারোটায় কলেজের সমস্ত তালা খুলে দেয় ছাত্রেরা।কলেজ এদিন থেকেই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।অনেক দিনের কাজ জমে আছে।এদিন অধ্যাপক দীপক কুমার কোলেও কলেজে এসেছেন।এদিকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শুভাশিষ চন্দ জানান,তদন্ত কমিটিকে তাদের বক্তব্য বলেছেন।এখন কমিটি এবং রাজ্য সরকারের উপর তাদের আস্থা আছে।কলেজ এদিন থেকে তারা স্বাভাবিক করে দিয়েছেন।যদিও তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলি যাতে যাতে প্রত্যাহার করা হয় সেই দাবীও তদন্ত কমিটির কাছে করা হয়েছে বলে অভিজিত জানিয়েছেন।

Please follow and like us: