রোগিণীর পাকস্থলী থেকে বের হল দুটি সূঁচ

IMG-20180902-WA0022

মালদা, ০২ সেপ্টেম্বর : ফের রোগীর শরীরের ভিতর থেকে সূঁচ বের করল মালদা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। গতকাল রাতে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় এক রোগিণীর পাকস্থলী থেকে দুটি সূঁচ বের করেছেন তাঁরা। যদিও একটি সূঁচ এখনও ওই রোগিণীর পাকস্থলিতেই আটকে রয়েছে। তবে তাতে তাঁর প্রাণহানির কোনও আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত লাট কেশবপুর গ্রামের বাসিব্দা সাইদুল মিয়াঁ। তাঁর বিবির ক্ষেত্রেই ঘটেছে এই ঘটনা। নিলুফা বিবি থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। প্রতিদিন তাঁকে থাইরক্সিন সোডিয়াম খেতে হয়। সাইদুল জানান, ওষুধের শিশিতে একটি ট্যাবলেট থাকায় শুক্রবার রাতে নিলুফা মুখে জল নিয়ে সেই শিশিটি নিজের মুখে উলটে দেয়। ওই শিশিতে ট্যাবলেট ছিল না। ছিল ৪টি সূঁচ। তার মধ্যে ৩ট সূঁচ নিলুফার পেটে চলে যায়। একটি সূঁচ আটকে যায় তার মুখে। সে সেই সূঁচটিকে নিজেই বের করে দেয়। গোটা ঘটনা জেনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিলুফাকে স্থানীয় কালদিঘি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে রেফার করে দেওয়া হয় মালদা মেডিকেলে। গতকাল রাতে মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাঁর বিবির পেট থেকে দুটি সূঁচ বের করে এনেছেন। তবে একটি সূঁচ এখনও নিলুফার পেটে রয়েছে৷ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই সূঁচে নিলুফার প্রাণহানির কোনও আশঙ্কা নেই। মালদা মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাঁর বিবির অরাণ রক্ষা করেছেন। তিনি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।নিলুফা বিবির পেট থেকে সূঁচ বের করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে মালদা মেডিকেলের জেনারেল সার্জারি বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর পার্থপ্রতিম মণ্ডলের নেতৃত্বে। সেই দলে তাঁর সহকারী ছিলেন চিকিৎসক শিশির সর্দার সহ মোট ১০ জন। পার্থবাবু বলেন, ওই রোগিণীর পেটের সিরিয়াল এক্স-রে করে তাঁরা দেখতে পান, পেটে চলে যাওয়া সূঁচগুলি স্থান পরিবর্তন করছে। এতে রোগিণীর পাকস্থলী ও খাদ্যনালির বিভিন্ন জায়গায় ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই তাঁরা সময় নষ্ট না করে তাঁর পাকস্থলী থেকে সূঁচ বের করার সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষ এক প্রক্রিয়ায় ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় তাঁরা দুটি সূঁচ পুরোটাই বের করে আনেন। সূচগুলি কাঁথা সেলাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৩ সেন্টিমিটার। একটি সূঁচ ভেঙে গিয়ে তাঁর পাকস্থলীর মাংসপেশিতে আটকে রয়েছে। তবে তাতে তাঁর কোনও সমস্যা হবে না। তাঁর জীবনহানিরও কোনও আশঙ্কা নেই।(এনএ)

Please follow and like us: