মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দুই পালিত শিশুর মুখেভাতের অনুষ্ঠান

 

mmmmmmmmm

মালদা ,১৪ মার্চ । জন্মের পর থেকে ওদের আশ্রয়স্থান মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল । মা-বাবাহীন ওই শিশুদের অভিভাবক চিকিৎসক-নার্সেরা। আর সেই শিশুদের ঘটা করে শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে মুখে ভাত দেওয়ার অনুষ্ঠানপর্ব পালন করলো মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুরনো প্রথা মেনেই মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপার এবং এক মেডিকেল অফিসার দুই শিশুর মামা হয়ে মুখে ভাত দিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মেডিকেল কলেজের ‘মাতৃমা’ ভবনে দুই শিশুর মুখে ভাত অনুষ্ঠান পালন করলেন মালদা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। উপস্থিত ছিলেন ডাঃ জ্যোতিষ চন্দ্র দাস, মেডিকেল অফিসার ডাঃ দেবব্রত বিশ্বাস সহ মাতৃমা বিভাগের অন্যান্য চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছয় মাসের দুই শিশুকে রায় এবং রিশু নামে ডাকেন মাতৃমা বিভাগের নার্স থেকে চিকিৎসকেরা । দুজনের মধ্যে একটি শিশু ছেলে আর একটি মেয়ে। যদিও তাদের এখনো নামকরণ হয় নি। এই দুই শিশুর দেখাশোনা ‘মাতৃমা’ বিভাগ থেকে করা হয় । ওই দুই শিশুর জন্মের পর তাদের মেডিকেল কলেজে সদ্যোজাত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল মায়েরা । আর তারপর থেকেই নার্সদের কাছেই মানুষ ওই দুই শিশু। এরপর মেডিকেল কলেজের শীর্ষ কর্তাদের উদ্যোগে ওই শিশুর মুখে ভাত দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিন যেভাবে মেডিকেল কলেজের ‘মাতৃমা’ বিভাগে ওই দুই শিশুর মুখে ভাত দেওয়ার অনুষ্ঠান পালন করেছেন চিকিৎসক-নার্সসেরা তা চোখ ধাঁধানোর মতোনই । শিশুদের থাকার ঘরটি বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। রীতিমতো দশ রকমের সবজি-তরকারি, দামি চালের ভাত, ইলিশ পাতুরি, কাতল মাছ, খাসির মাংস, পায়েশ , মিষ্টি এইসব রকমারি খাবারের আয়োজনে ছিল। এছাড়াও ওই দুই শিশুকে দারুন ভাবে সাজানো হয়। মাথায় টোপর, গলায় ফুলের মালা পড়ানো হয়। তার সঙ্গে নতুন জামাকাপড়ে সাজিয়ে চিকিৎসকেরা নিজেদের কোলে বসিয়ে মামা হয়ে মুখে ভাত তুলে দেন । সাথে পড়ার বই, কলম থেকে শুরু করে পয়সা তামার পাত্রে রেখে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ওই শিশুদের হাতে স্পর্শ করতেও দেওয়া হয়।

মালদা মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপার ডাঃ জ্যোতিষ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, নিউনেটাল বিভাগে ওই শিশুরা ছিল ।মেডিকেল কলেজে ছয়টি শিশু রয়েছে । তাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স ছয় মাস হয়েছে। নার্সিংস্টাফ, চিকিৎসক , স্বাস্থ্যকর্মীরা স্নেহের সঙ্গে তাদের মানুষ করছেন। ওই দুই শিশুকে নিয়ে এদিন অন্নপ্রাশনের কর্মসূচি নেওয়া হয় । পরবর্তীতে এই শিশুদের সরকারি হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে । এই শিশুদের পুনর্বাসন ভালো জায়গায় হলে তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে । মেডিকেল কলেজের প্রত্যেক চিকিৎসক-নার্স , স্বাস্থ্যকর্মীরা এই কামনা করেই ওদের আশীর্বাদ করেছেন।(এন এ )

Please follow and like us: