ভ্রাম্যমান দোকান চালিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কল্যাণপুরের বাসিন্দা গৌর সরকার

99

মালদা,৬ মার্চ- ভ্রাম্যমান দোকান চালিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইংরেজবাজার থানার কোতুয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কল্যাণপুরের বাসিন্দা গৌর সরকার। নিজের মোটর বাইকটি গৌরবাবুর আস্ত একটি দোকান। ভ্রাম্যমান দোকানটি নিয়ে স্টিকার বসানোর কাজ করেন গৌরবাবু। নাম্বার প্লেট-‌সহ রকমারি রেডিয়াম স্টিকার বসিয়ে মোটর বাইক সাজানোর কাজটি করে থাকেন। জেলায় তাঁর মতো আর একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। নিজের পছন্দের কাজ এটি। যা রোজগার করেন, তাতেই চলে সংসার।
অনর্গল ইংরেজি বলতে পারেন গৌরবাবু। যেখানে সেখানে ইংরেজিতে কথা বলেন। বরাবর স্বাধীনভাবে কাজ করার পক্ষপাতী তাই নিজেই একটি ভ্রাম্যমান দোকান করে বসেছেন। ছোট থেকেই তাঁর আঁকার প্রতি নেশা। তিরিশ বছর বয়স থেকে শুরু করেন বাড়ি বাড়ি সংবাদপত্র বিলির কাজ। পাশাপাশি রপ্ত করলেন পেইনটিংয়ের কাজও। এবার রঙ-‌তুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়া কাজের খোঁজে। সাইকেল নিয়ে যেখানে সেখানে ঘুরতেন। ট্রাক, লরিতে রঙে সুসজ্জিত করে তুলতেন। এই করতে করতে একদিন মঙ্গলবাড়ি এলাকায় নজেরে আসে একটি স্টিকারের দোকান। সেখানে মোটর বাইকে নম্বর প্লেট বসানোর পাশাপাশি স্টিকারে সাজিয়ে তোলা হত। যেই দেখা, ওমনি কাজ। নিজের সাইকেলেই শুরু করলেন স্টিকার বসানোর কাজ। বছর চারেক আগে শুরু করেছেন কাজটি। এক বছর বাদেই কিনে ফেলেন মোটর বাইক। এখন তাঁর মোটর বাইকটিই একটি দোকান। কী নেই তাঁর দোকানে!‌ পেছনে বসার সিটটি তুলে দিয়ে সেখানে একটি টেবিল করেছেন। সেখানে স্টিকার কাজটি করে থাকেন। গাড়িতে বাঁধা রয়েছে একটি ফোল্ডিং টুল। রয়েছে তাঁর সরঞ্জামের বাক্স। আর বেশ কিছু ব্যাগ। সেখানে রকমারি স্টিকারে ভর্তি। শুধু শহরই নয়, ছুটে যান কখনও গাজোল, কখনও বা ফরাক্কা। রাস্তার ধারে জনবহুল এলাকা দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। চলে স্টিকার মোটর বাইকে স্টিকার বসানোর কাজ। শুধু মোটর বাইকই নয়, বোলেরো,স্কোরপিও-‌তে চলে স্টিকারে সুসজ্জিত করার কাজ। এখানেও নাকি চলে ‘‌দাদাগিরি’‌। অন্যরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বলে। লোকটির মুখে কোনও রাগ নেই।
গৌরবাবু বলেন,‘‌ পরিবারে স্ত্রী,ছেলে-মেয়ে রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা তাঁর এগোয় নি। ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। বাবা অন্যত্র চাকরি করতেন। সৎমায়ের অত্যাচারে মাঝেমধ্যেই বাড়ি ছেড়ে পালাতেন তিনি। বাইরে বাইরে ঘোরার অভ্যেসটি সেই ছোট বেলাকার। শিশুদের পড়াতে পড়াতে ইংরেজিতে আরও সরগর হয়ে ওঠা। শিশুদের পড়িয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু বন্দি থাকতে চাননি কোনওদিন। তাইতো স্বাধীনভাবে কাজ করে চলেছেন।(এনএ)

Please follow and like us: