প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূল ২ গোষ্ঠীর মারপিট,জখম  ৭ জন

ail 11

মালদা,4 এপ্রিল-‌প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূল ২ গোষ্ঠীর মারপিট। প্রস্তাবিত প্রার্থীর মাথা ফাটায় অপর গোষ্ঠী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে মানিকচক পঞ্চায়েত অফিস লাগোয়া আমবাগানে। এদিন, মানিকচকের ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১৩ নম্বর আসনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন ব্লক তৃণমূল নেতারা। ওই বৈঠকে ১১৩ নম্বর আসনে মুজিবর রহমানের নাম ঘোষণা করেন মালদা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি গৌড় মন্ডল গোষ্ঠীর অনুগামীরা। মুজিবার রহমানের নাম ঘোষণা হতেই ওই আসনে আরেক দাবিদার সাকিলা বিবির অনুগামীরা প্রতিবাদ করেন। এরপর শুরু হয়ে যায় বাদানুবাদ। তারপর হাতাহাতি, মারপিট। লাঠি, হাঁসুয়া নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠি, হাঁসুয়ার কোপে মাথা ফেটে যায় মুজিবর রহমানের। পাল্টা তাঁরাও বাঁশ,লাঠি নিয়ে সাকিলা বিবির অনুগামীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দুই পক্ষের বিবাদের জেরে জখম হয়েছেন ৭ জন। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে। সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও মজিবুর রহমানকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে রেফার করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকচকে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসে মানিকচক থানার পুলিস। উভয় পক্ষ একে ওপরের বিরুদ্ধে মানিকচক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনা প্রসঙ্গে জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাকিলা বিবি বলেন,‘‌আমি এই কেন্দ্রে সদস্য। এবং প্রধানের দায়িত্বেও রয়েছি। ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব প্রার্থী বাছাই নিয়ে একটি সভা ডেকেছিল। সেখানে আমাকে বাদ দিয়ে মুজিবর রহমানকে প্রার্থীর করার কথা ঘোষণা করেন গৌড় মন্ডল ও তাঁর অনুগামীরা। এর ফলেই সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিছু লোক এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের ওপর লাঠি, হাঁসু্য়া নিয়ে চড়াও হয় গৌড় মন্ডলের অনুগামীরা। তবে আমরা কারোর ওপর হামলা চালাই নি। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে অভিনয় করছে ওরা। আমি ওই এলাকায় ৫ বছর ধরে প্রধান রয়েছি। আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ প্রার্থী হোক তা মেনে নেন নি লোকজন।’‌ অন্যদিকে আহত মুজিবর রহমান বলেন, ‘‌আমাকেই প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিল এলাকার মানুষ। নাম প্রস্তাব হতেই আমার ওপর হামলা চালায় সাকিলা বিবির দলবল।’‌ যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই গৌড় মন্ডল বলেন,‘‌এটা দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা দলের মধ্যেই মিটিয়ে ফেলব। গোটা ঘটনা নিয়ে বিরক্ত এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। তিনি বলেন,‘‌প্রার্থী বাছাই নিয়ে দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। পুলিসকেও বলেছি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’‌

Please follow and like us: