ত্বকের যত্নে রসুনের গুন

skin

রসুনের ওষধি গুণাবলী সম্পর্কে কম বেশি সবারই আমাদের জানা। হার্ট সুস্থ রাখা থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত রসুনের ভূমিকা রয়েছে। আপনি কি জানেন ত্বকের যত্নেও রসুনের জুড়ি নেই। ত্বকের যত্নে রসুন! অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়? কিন্তু ব্রণ এবং ব্রণের দাগ নিমিষে দূর করে দিতে পারে এই রসুন। এক কথায় ত্বকের যত্নে রসুনের ব্যবহার অপরিসীম।

অনেক আগ থেকেই দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে। এ ছাড়া অলিম্পিক গেমের ক্রিয়াবিদরা প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য রসুন খেয়ে থাকেন। প্রাচীন চিন ও জাপানে রসুনকে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভারতে হৃদরোগ ও গাটে ব্যথা প্রতিরোধে দীর্ঘকাল ধরেই রসুন ব্যবহার হয়ে আসছে।

আবার বিভিন্ন দেশে রোগ নিরামকারী উপাদান হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০ শতকের মাঝামাঝি এসে একে অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে তুলনা করা হয়। মধুকে সংক্রমণ প্রতিরোধী উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এই দুটো চমৎকার জিনিস যখন একসাথে হয় তখন এর গুণ বেড়ে যায় আরো বেশি।রসুন ও মধুর মিশ্রণ বিভিন্ন ধরনের  সংক্রমণ, ঠান্ডা, জ্বর, কফ ইত্যাদি সারাতে বেশ ভালো কাজ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কেবল সাতদিন রসুন ও মধুর মিশ্রণ খেলে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরকে অনেকটাই রক্ষা করা যায়।

মধু ও রসুনের এই মিশ্রণটি তৈরির প্রণালি চলুন জেনে নেই-

 যে উপাদান লাগবে

  • একটি মাঝারি আকৃতির বয়াম।
  • মধু।
  • তিন থেকে চারটি রসুন। (খোসা ছাড়ানো)

যেভাবে প্রণালি তৈরি করতে হবে

  • প্রথমে বয়ামের মধ্যে রসুনের কোয়াগুলো থেতলে নিতে হবে। এরপর এর মধ্যে মধু ঢালতে হবে। এবার বয়ামের মুখ বন্ধ করে মিশ্রণটি ফ্রিজের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে।
  • প্রতিদিন খালিপেটে মিশ্রণটি আধা চা চামচ করে খেতে থাকুন। ঠাণ্ডাজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য দিনে ছয়বার আধা চা চামচ করে এটি খেতে পারেন। এটি সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করবে।

কিছু টনিক

১) কাঁচা রসুন ও মধু: রসুনের ২-৩টি কোয়া কুচিয়ে নিতে হবে। তার সাথে এক টেবিলচামচ মধু মিক্স করতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণ খেলে শরীর ফিট ও এনার্জিতে কোন কমতি থাকবে না।

২) রসুনের ফ্লু টনিক: অতিরিক্ত সংবেদনশীল ত্বক হলে এই টনিক বানানোর সময় হাতে দস্তানা পরে নিবেন এবং চোখে হাতের ছোঁয়া এড়িয়ে চলতে হবে। জোগাড় করে ফেলুন অর্ধেক পেঁয়াজ কুচি, ৫ কোয়া রসুন কুচি, ২টি শুকনো লঙ্কা কুচি, ১ টেবিলচামচ আদা কুচি, একটি গোটা পাতিলেবুর রস এবং অ্যাপল সাইডার ভিনিগার।

এই টনিক তৈরি করতে প্রথমে একটি পাত্রে পেঁয়াজ-রসুন-আদা-শুকনো লঙ্কা কুচি মেশাতে হবে। আলাদা পাত্রে লেবু চিপে রস তৈরি রাখতে হবে। এবার কুচোনো উপকরণে লেবুর রস মিক্স করতে হবে। সব শেষে ভিনিগার ঢেলে সব এক সাথে মিশিয়ে অন্তত ১ সেন্টিমিটার ফাঁক রেখে পাত্রটি ঢেকে রাখতে হবে। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও ফ্লু সারাতে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

Please follow and like us: